অনুপ্রেরণামূলক গল্প, মানুষের প্রতি সহায় হোন

অনুপ্রেরণামূলক গল্প, মানুষের প্রতি সহায় হোনঃ আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম জানার মতো অসাধারণ সব গল্প অনুপ্রেরণামূলক গল্প, মানুষের প্রতি সহায় হোন। আশা করছি পড়তে পেরে অনেক ভালো লাগবে।                                                                                                          আরো পড়ুন>>> অনুপ্রেরণার গল্প

অনুপ্রেরণামূলক গল্প,

মানুষের প্রতি সহায় হোন

একটা ছোট্র মেয়ে দেখতে মাশাআল্লাহ অনেক কিউট। সুন্দর জামা কাপড় পড়ে-বাবার পাশে বসে আছে। মেয়েটার হাতে একটা বিস্কুটের প্যাকেট। মেয়েটা বসে বসে তার বেঞ্চের নিচে বসে থাকা একটা বিড়ালকে বিস্কুট দিচ্ছে আর বিড়ালটা অনেক মজা করে বিস্কুটটা খাচ্ছে। মেয়েটার বাবা সেইটা দেখতে পেল এবং উনার স্ত্রীকে ইশারা দিয়ে এই সুন্দর দৃশ্যটা দেখালেন।

আমিও খুব মজা পাচ্ছিলাম তা দেখে।

তারপর বিড়ালটা এমনিতেই সেখান থেকে চলে গেল। আর আমিও ঘাড় ফিরিয়ে আমার বন্ধুদের সাথে আড্ডায় যোগ দিলাম।

কিছুক্ষণ পর মেয়েটার দিকে আবার যখন চোখটা গেল তা দেখে আমার চোখে পানি আসার মত অবস্থা। একটা ছোট্র মেয়ে ৭ থেকে ৮ মাসের বাচ্চা হবে, গায়ে কাপড় নেই, শুয়ে আছে ঐ বেঞ্চের নিচে ঠিক ঐ বিড়ালটার জায়গায়। উপর থেকে মেয়েটা বিস্কুট ছুড়ে মারছে এবং নিচের বাচ্চাটা হামাগুড়ি দিয়ে বিস্কুট খুটে খুটে খাচ্ছে। যখন এই দৃশ্যটা ধনী বাপের নজরে পড়ল তখন মেয়েটাকে কোলে তোলে নিলেন যেন মেয়েটা বিস্কুট এমনি এমনি নষ্ট না করে।

অনুপ্রেরণামূলক গল্প,

মানুষের প্রতি সহায় হোন

বিশ্বাস করেন এইটা দেখে কান্না চলে আসার মত অবস্থা ছিল আমার। আমি উঠে গিয়ে এক পেকেট বিস্কুট কিনলাম। বিস্কুটের পেকেট ছিঁড়ে মেয়েটার হাতে ধরিয়ে দিয়ে ঠিক ঐ ধনী লোকটার সামনে এনে বসিয়ে দিলাম। লোকটা তা দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে।
লোকটার সামনে বসে মেয়েটা যখন বিস্কুট খাচ্ছিল তখন কিযে আনন্দ পাচ্ছিলাম তা বলে বোঝানো সম্ভব না।
পরিশেষে গল্পে এইটা বুঝানো হয়েছে যে মানুষ হয়ে মানুষকে ঘৃণা করা মানুষের র্ধম না। প্লিজ মানুষদের প্রতি সহায় হোন। কোন ভাবে সাহায্য না করতে পারলেও অন্তত ঘৃণা করিয়েন না। ভালবাসতে শিখুন।

তিনটি সুন্দর ঘটনা

১. একদিন সব গ্রামবাসী মিলে সিদ্ধান্ত নিল তারা বৃষ্টির জন্য দোয়া করবে। সবাই সমবেত হল, কেবল একটি ছেলে ছাতা সহ এলো।   …. এটাই বিশ্বাস।
২. আপনি যখন কোন শিশুকে শুন্যে ছুঁড়ে খেলা করবেন, সে তখন হাসতে থাকে কারন সে জানে আপনি তাকে আবার ধরে ফেলবেন।  …. এইটাই ভরসা।
৩. প্রতি রাতে আমরা যখন ঘুমাতে যাই, কোন নিশ্চয়তা নেই আমরা পরের দিন আবার জেগে উঠতে পারব। তবুও আমরা পরের দিনের জন্য এলার্ম দিয়ে রাখি।… এইটাই আশা।
কাজেই সৃষ্টিকর্তার উপর বিশ্বাস, ভরসা এবং আশা রাখুন।

এক রাজা ও তার বিশ্বস্ত কর্মচারী

এক দেশের এক রাজা ছিল খুবই কঠোর প্রকৃতির। তার রাজকার্য পরিচালনার জন্যে নিয়োজিত ছিল অগনিত রাজ কর্মচারী। এতো গুলো কর্মচারীর ভিতর তার কোনো কর্মচারী যদি তার রাজকার্য করতে গিয়ে কোনো ভুল করতো, তাহলে তিনি তাদের কঠিনতম শাস্তি দিতেন। তার কাছে ভুলের কোনো ক্ষমা নেই।

রাজার এক বিশ্বস্ত কর্মচারী প্রায় ১০ বছর ধরে তার রাজকর্ম পালনের জন্য নিয়োজিত ছিল। একদা তার এ বিশ্বস্ত কর্মচারী তার আদেশ পালনে ভুল করে বসলো। কর্মচারী তার ভুলের জন্য রাজার কাছে খুবই আকুতি করলো। কিন্তু রাজার কাছে তো ভুলের কোনো ক্ষমা নেই।

ফলস্বরুপ রাজা তার দেহকে কুকুর দিয়ে ভক্ষন করানোর জন্য প্রহরীদেরকে আদেশ করলো। কর্মচারী যখন দেখলো যে তার আর রেহাই নেই, তখন সে রাজার কাছে শুধু তার একটি ইচ্ছা পূরন করার জন্য ফরিয়াদ জানালো।

ফরিয়াদটি হলো যে, হুজুর আমাকে মাত্র ১০ দিন সময় দিন, আমি এই ১০ দিন কুকুর গুলোকে মনের মতো পেট পুরে খাওয়াবো।

তখন রাজা তার এ কথা শুনে বললো যেহেতু তুমি আমার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কর্মচারী ছিলে তাই তোমাকে এই ১০ দিন সময় দেয়া হলো। কিন্তু মনে রেখ মাত্র ১০ দিন।

এই ১০ দিন ঐ কর্মচারী কুকুরগুলোকে খুব আদর যত্ন করে খাওয়ালো। ১০ দিন সময় শেষ হয়ে গেল। তাই রাজার সেই আদেশ পালনের জন্য প্রহরীরা নিয়মানুযায়ী ওই আগ্রাসী কুকুর গুলোর কাছে ওই কর্মচারীকে নিক্ষেপ করলো।

এক রাজা ও তার বিশ্বস্ত কর্মচারী

কিন্তু দেখেন কুকুরগুলো দৌড়ে এসে ওই কর্মচারীর হাত পা চাটা শুরু করলো। এ অবস্থা দেখে তো রাজা হতবাক ! মাথা গরম, একি ব্যাপার কি হলো কুকুরগুলোর ?

প্রহরীরা শত চেষ্টা করেও কুকুরগুলোকে রাগাতে ব্যর্থ হন। কিছুক্ষন পর ওই কর্মচারী উঠে দাড়িয়ে রাজাকে বললো যে হজুর, ১০ বছর আপনার সেবা করে আমি কি পেলাম ? কিছুই পেলাম না। মাত্র ১ দিনের ভুলের প্রতিদান দিলেন মৃত্যুদন্ড। আপনার কাছে আমার কোনো মূল্য নেই।

কিন্তু দেখেন মাত্র ১০ দিনের সেবা ও আদর পেয়ে কুকুরগুলো আমাকে কিভাবে সম্মান দিচ্ছে, প্রতিদান দিচ্ছে। আমার সাথে কুকুরগুলো বিশ্বাস ঘাতকতা করেনি। আপনার প্রহরীরা শত চেষ্টা করেও কুকুরগুলোকে রাগাতে ব্যর্থ হন।

এ কথা শুনে রাজার মনে অনুশোচনা জাগ্রত হলো। সে মনে মনে ভাবলো মাত্র ১০ দিনের সেবা পেয়েই কুকুরগুলো তার মনিবকে কত সম্মান করছে। তার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেনি।

কিন্তু আমি এইটা কি করতে চেয়েছি ? যে কর্মচারী প্রায় ১০ বছর আমার সেবা করতো, খেদমত করতো তাকেই আমি…..কথাগুলো ভেবে রাজা মনে মনে লজ্জ্বাবোধ করলো।

ফলস্বরুপ রাজা তার কর্মচারীকে মাফ করে দিল। সে তার ভুল বুঝতে পেরে কর্মচারীকে বুকে টেনে নিল।

এক মহিলা ও সাপ

এক মহিলা একটি অজগর সাপ পুষতেন। একদিন হঠাৎ করে সাপটি খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিল। শুধু বিছানায় মহিলার গা ঘেঁসে শুয়ে থাকে। কোন কিছুতেই কিছু খায় না। অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর মহিলা সাপকে নিয়ে গেলেন ডাক্তারের কাছে।

পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে ডাক্তার প্রশ্ন করলেন সাপ কি আশেপাশে থাকে যখন আপনি ঘুমাতে যান ? উত্তরে মহিলা বলল “হ্যা”।

ডাক্তার বলল দেখুন আসলে আপনার সাপের কোন রোগ হয়নি, ও নিজেকে যাচাই বাছাই করে আপনাকে খেয়ে হজম করার প্যাক্টিস করছে। এজন্যই আপনি ঘুমালে বার বার আপনার গা ঘেঁসে আপনাকে মেপে মেপে পরীক্ষা করে নিজেকে অভূক্ত রাখছে। সঠিক সময়ে ও আপনাকে গিলে ফেলবে।

মূলকথাঃ কেউ আপনার সাথে একই রুমে থাকলে বা হাসলে মনে করবেন না যে সে আপনার বন্ধু।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!