ভুতের গল্প – ভুতের পরাজয়

ভূতের গল্প -ভূতের পরাজয় সুন্দর ভুতের গল্প এখানে দেয়া হলো। আশাকরি পড়ে অনেক ভালো লাগবে আর ভালো লাগলে নিচে আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। ভূতের গল্প – ভূতের পরাজয়। ভুতের গল্প

ভুতের গল্প – ভুতের পরাজয়

এক গাঁয়ে নাপিত ছিল । সে ভারী চালাক লোক বুদ্ধিতে এটে উঠতে পারে এমন লোক আর সে গায়ে ছিল না । তাই সেখান কার সব লোক কথায় কথায় তার কাছে আসতো বুদ্ধি নিতে ।

কিন্তু বুদ্ধি থাকলে কি হবে ! বুদ্ধির জোরে তো আর পেট চলে না – বেচারা নাপিত বড়ই গরীব । রোজ সকালে উঠে সে বাড়ী থেকে বের হয় । সারা গায়ে ঘুরে ফিরে সকলকে সে বুদ্ধি দেয় । সন্ধা বেলা বাড়ী ফিরে খালি হাতে । যদি কেউ দয়া করে দুচার পয়সা দেয় তা নিয়ে আসে । কিন্তু তাতে কি আর খরচ চলে ।

একদিন বিকেলে নাপিত বাড়ী ফিরলো খালি হাতে ।  এদিকে ঘরে কিছু নেই চাল ডাল সারা দিন রান্না হয়নি । দেখেতো নাপিতের বউয়ের মাথা রেগেই টং !!! ঘরে চাল ডাল নেই উনি ফিরেছেন খালি হাতে । রাগের সাথে তার বৌ একটা ঝাটা হাতে তাকে তেড়ে এলো । 

নাপিত দেখলো সবই বিপদ । সে ভয়ে ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পিঠটান দিলো । নাঃ আর বাড়ী মুখো হবে না সে । যাবার সময় সে তার বউকে বলে যদি কোনো ‍দিন আমি বড় লোক হতে পারি তবে বাড়ী ‍ফিরবো । না হলে আর কোন দিন বাড়ী ফিরবো না । নাপিত চলছে তো চলছেই ।

যে ‍দিকে দু চোখ যায় সে দিকেই হেঁটে চলে সে কতদুর পার হয়ে যায় । সঙে করে সে কিছু আনে নি । শুধু একটা সখের ময়না পাখি , খাবার জন্যে দুটো পাকা পেপে আর একটা মুখ দেখা আয়না সঙে এনেছিল সে ।

নাপিত সোজা এগিয়ে চলে । নদীর পানি আর গাছের ফল খেয়ে দিন কাটায় ।  এমনি করে চলতে চলতে সে এক বিরাট মাঠের কিনারে এসে পৌচালো ।

সূর্য তখন ডুবু – ডুবু অবস্থায় ।  নাপিত দেখলো মহা বিপদ । তেপান্তরে মাঠে রাতে নামলে তাকে মুস্কিলে পড়তে হবে । নাপিত জরে পা চালাল । কিন্তু কথা আছে , যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধা হয় । নাপিতের বেলাতেও হলো তাই । দেখতে দেখতে সন্ধা এসে পড়লো । এদিকে সেই তেপান্তরের মাঠে থাকতো এক মামদো ভুত । বিরাট লম্বা তার চেহারা । গায়েও তেমনি জোর । তার সঙে গায়ের জোরে এটে উঠতে পারে এমন সাধ্য কার ?

সন্ধা হ্ওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মামদো ভুত হাঁ হাঁ করে তেড়ে এলো । কি বিশাল তার চেহারা । তাল গাছের মতো যেমন লম্বা ‍তেমনি সরু লিকলিকে লম্বা হাত পা । বিরাট জালার মতো মাথা । তার ওপর আবার মুলোর মতো সব লম্বা লম্বা সাদা দাতগুলো বেরিয়ে আছে ।

নাপিত দেখলো শো শব্দে হাওয়ার ভর দিয়ে উড়ে আসছে বিশাল চেহারার মামদো ভুতটা । ওপারে তেপান্তরের মাঠে পাড়ে শেওড়া বন । সেখানে ততক্ষণে বারো ভুতের নাচ শুরু হয়ে গেছে । মামদো গিয়ে সেই নাচে যোগ দেবে । তাই সে বাতাসে উড়ে তাড়াতাড়ি চলছিলো সেদিকে ।

নাপিতকে দেখে মামদো অবাক !  এতটুকু পুচকে লোকটা আবার এখানে কেন ? কোন সাহসে এই লোকটা আবার তেপান্তরের মাঠে পা বাড়ায়?

মামদো হেকে বললো : 
কোন দেশেতে বাড়ীরে তোর
কোন দেশেতে ঘর ।

এত রাতে আসলি কেন
তেপান্তরের পর । 
নাপিত উওর দিলো :

‘‘ সাতটি ভূত গোলাম আমার ,,
তুই সহ হবে আট !!
এই শুনে মামদো ভূত দৌড়ে পালাল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
error: Content is protected !!