ভালোবাসার গল্প

ভালোবাসার গল্পঃ প্রিয় পাঠক বন্ধুরা আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম ভালো লাগার মতো খুব সুন্দর ও ইমোশোনাল একটি ভালোবাসার গল্প। আশা করছি পড়তে পেরে আপনাদের কাছে অনেক ভালো লাগবে।

                                                                                                  আরো পড়ুন>>> Bangla Love Status

ভালোবাসার গল্প

না বলা ভালোবাসাভালোবাসার গল্প

যে কোন ভালোবাসা সম্পর্কের শুরুতে একজনের আগ্রহ অন্য জনের অনাগ্রহ থাকে, ছাদের রেলিংয়ে বসে নিচের দিকে তাকে একদম নিশ্চুপ হয়ে, একটু অসাবধান হলে জীবন নাশের ভয়। “ভাইয়া এখানে কি কাপড় শুকাতে দেয়া যায়, সকাল থেকে সন্ধা ছাদের দরজা খোলা থাকে, কিন্তু এখনতো সন্ধা। না মানে ভাইয়া আমরা এই বাসায় নতুন আসছি তাই দেরি হয়ে গেল। আচ্ছা আপনি এভাবে বসে আছেন কেন? পড়ে যাবেনতো। শুভ এসব কথায় কান না দিয়ে ও নিজের মতোই বসে আছে। আচ্ছা ভাইয়া আপনি কাউকে চেহারা দেখান না শুভ পিঠ ফিরিয়ে বসে আছে। একটু বিরক্তি হয়ে রেলিং থেকে নেমে দাড়ালো মেয়েটির মুখোমুখি হয়ে। শুভ বললো আমি তোমাকে কি চিনি? না, আপনি আমাকে চিনবেন না, আমি এই বাসায় নতুন আমার নাম অনদ্রিলা। ভাইয়া আপনি দেখতে অনেক সুন্দর বললো অনদ্রিলা শুভকে। সব সময় ভাইয়া আপনি কি এইভাবে গম্ভীর হয়ে থাকেন? শুভ হাসলো, হ্যা আমি এমনি, এই বলে শুভ এক পা দু পা করে নিচের দিকে নেমে গেল…অনদ্রিলা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলো শুভ এর পথচলা কেমন জানি ভালোলাগা কাজ করলো তার মধ্যে। পরের দিন সন্ধা ঠিক প্রতিদিনের মতো রেলিং এ বসে বসে বাদাম খাচ্ছে, তখনি পায়ের নুপুরের শব্দ শুনতে পেল, আর কেউনা অনদ্রিলা আজ আবার ছাদে আসল শুভকে বললো হাই ভাইয়া…চুপ হয়ে নিচের দিকে তাকিয়েছেন কেন? শুভ মুখ ফিরে দেখলো অনদ্রিলা।

কাউকে বুঝি খুব মিস করছেন, প্রাণ পাখি উড়াল দিয়ে চলে গেছে বুঝি? শুভ মুচকি হাঁসে…কিছুই বলে না..আর মাঝে মাঝে অনদ্রিলার মুখের দিকে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকায় অনদ্রিলার চোখে শুভর হাসিটা বার বার ভেসে উঠছে। এভাবে চলছে বিকালের পর বিকাল হাসি, গল্প আর মজা। শুভর মনে কেমন জানি অনদ্রিলার জন্যে ভালোলাগা শুরু করলো, শুভ রুমে গিয়ে কল্পনার জগতে ভাসছে, কি সুন্দর ছিমছাম মেয়েটি হাসে যখন মেয়েটির মুখে টোল পড়ে তখন আরো অসাধারণ লাগে। এখনো বলা হয়নি কেউ কাউকে ভালোলাগা ভালবাসার কথা। শুভ গত এক সপ্তাহ গ্রামে গিয়েছিল পরিবারের কাজে। ফিরে এসে বরাবরের মতো ছাদে গেল কিন্তু আজ কেনো জানি এখনো অনদ্রিলা ছাদে আসেনি। শুভ অপেক্ষায় আছে অনদ্রিলার জন্যে কখন আসবে,, পরবর্তীতে জানতে পারলেন অনদ্রিলা বাব-মা সহ বাসা চেঞ্জ করে চলে গেছে। শুভ দৌড়ে গিয়ে আবার ছাদে উঠে আনমনা হয়ে আছে, হঠাৎ কাগজের একটা টুকরো পড়ে যেখানে তারা দুজনে দাড়িয়ে গল্প করতো, অনদ্রিলা ভালবাসার কথা গুলো ওই কাগজে লিখে ছিলো কিন্তু কখনো মোবাইলে এসএমএস করে বলে নি। অনদ্রিলার নাম্বারে অনেক বার ট্রাই করছিলাম কিন্তু নাম্বারটা বার বার অফ বন্ধ বলছিলো।

কি ছিলো এই কাগজে, কাগজটি হাতে নিতেই ছিড়ে ছিড়ে পড়তে লাগলো, বৃষ্টির পানিতে ভিজে কাগজের সব লেখা অস্পষ্ট হয়ে গেল,, শুভর চোখের পানি ঝর ঝর করে পড়তে লাগলো,,, কেন এমন হলো? কেনইবা আমি গ্রামে গেলাম……আমার বুকে কেন আজ এমন লাগছে…আমিতো আজ একা হয়ে গেলাম, কে বলবে আর দুষ্ট, মিষ্টি কথা গুলো….সেই দিন থেকে শুভ শহরের প্রতিটি অলিতে গলিতে অনদ্রিলাকে খুজে বেড়ায় আর সন্ধায় এক বুক কষ্ট নিয়ে বাসায় ফিরে……..!!

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
error: Content is protected !!