বাস ভ্রমণ রচনা

বাস ভ্রমণ রচনা

সূচনাঃ আমাদের দেশে বাস একটি পরিচিত বাহন । প্রায় প্রত্যেক দিনই আমরা বাসে করে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ভ্রমণ করি । তবে বাসে দীর্ঘ পথ আমরা কদাচিৎ যেয়ে থাকি ।

ভ্রমণ যাত্রার শুরুঃ একবার আমার বাসে ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। গ্রীষ্মের ছুটিতে আমি আমার চাচার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলাম । আমি সকালে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ‍গিয়েছিলাম। অনেক কষ্টে আমি ঢাকা-সিলেট বাস খুজে পেলাম। আর্শ্চযের বেপার হলো আমি অধিকাংশ আসন পূর্ণ পেয়েছিলাম। সৌভাগ্যক্রমে আমি একটি আসনে পেলাম । এটা ছিল চেয়ার কোচ । আমার সিট ছিল জানালার পাশে এবং আমি তা আরামদায়ক পেলাম।

যাত্রার সময় মনরোম দৃশ্যঃ বাস ৭ টায় সিলেটের উদ্দেশ্যে ছাড়ল । আমাদর বাস যখন ঢাকা ছাড়ল, চালক গাড়ির গতি বাড়িয়ে ‍দিল । জানালা দিয়ে আমি বাহিরে তাকালাম। দু পাশের বাড়ি, কুটির, গ্রাম এবং গাছপালা পেছনে ফেলে আমাদের বাস চলছিল । সবুজ মাঠ দেখে আমার মন আনন্দে ভরে গেল ।

বাস যাত্রার বিরতিঃ সকাল ৮ টায় ভৈরবে মেঘনা ফেরিঘাটে পৌছলাম। আমরা সকলে বাস থেকে নেমে পড়লাম । হোটেলের বেয়ারারা যাত্রীদের কাছে এসে জিঙ্গেস করলো তাদের কোন খাবারের প্রয়োজন আছে কিনা । ফেরিতে হকাররা দৌড়ে বাসের দিকে এলো। তারা কলা, রুটি, ফলমূল, পান এবং সিগারেট বেচনে শুরু করলো । ফেরির অন্যপ্রান্তে পৌছতে এক ঘন্টা সময় লাগল ।

ভ্রমণের সময় স্মরণীয় ঘটনাঃ নদী পার হওয়ার পর আমরা আবার বাসে উঠলাম। চালক আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে চালাতে শুরু করলেন । পথে আমাদের বাস বিপরীত দিকে আসা একটি মাল বোঝাই ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ লাগার উপক্রম হয়েছিল । যাত্রীরা ভীত হয়ে চিৎকার শুরু করলো। আল্লাহর কৃপায় আমরা অল্পের জন্যে বেঁচে গেলাম।

ভ্রমণের বর্ণনাঃ ১১ টার ‍দিকে আমাদের বাস হবিগঞ্জ রোড়ে উঠল । আমাদের বাস পাহাড়ের আঁকা বাঁকা পথ ধরে চলতে শুরু করলো । পাহাড়ের উপরে চা বাগান সত্যিই মনমুগ্ধকর লাগছিল । শ্রীমঙ্গলে বাসটি অল্প সময়ের জন্য থামল । কিছু যাত্রী সেখানে হালকা খাবার খেল। এক স্থান ছিল পিরের মাজার, সেখানে সবাই বাস থেকে টাকা ছুঁড়ছিল । পীরের আশীর্বাদ কামনা করে আমিও একটাকা ছুঁড়ে মেরেছিলাম। আমাদের বাস দ্রুতগতিতে চলছিল। আমি বাসের ক্যাসেট প্লেয়ার থেকে গান শুনছিলাম। আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন বোধ করলাম। বেলা ২ টায় আমাদের বাস নিরাপদে সিলেট পৌছল । বাস থেকে নেমে আমরা প্রথমে হাত মুখ দুই তার পর খাবার দাওয়ার শেষ করে ভ্রমণের আনন্দ নিতে বেরিয়ে পড়ি ।

উপসংহারঃ আমার ভ্রমণ ছিল দীর্ঘ, তবু তা আমাকে আনন্দ দিয়েছিল । আমি কখনও এ ভ্রমণের স্মৃতি ভুলব না । বাস ভ্রমণের মতো এমন আনন্দ আমি আর কোনটাতেই পাই নি । আমার লাইফে বাস ভ্রমণটি ছিল সব চাইতে সেরা ও মনে থাকার মতো ভ্রমণ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!