ট্রেন ভ্রমণ রচনা

ট্রেন ভ্রমণ রচনা

সংকেতঃ সূচনা, ভ্রমণ যাত্রার শুরু, ভ্রমণ যাত্রার বর্ণনা, ট্রেনের ভিতরের পরিবেশ, যাত্রার সময় মনরোম দৃশ্য, যাত্রা পথে বিরতি, যাত্রার সময় আনন্দময় দৃশ্য, উপসংহার।

সূচনাঃ ট্রেন ভ্রমণ খুবই উপভোগ্য এবং আরামপ্রদ। এটি একজনকে গ্রামের একটি সংক্ষিত প্রতিচ্ছবি দেবে । আমি ঢাকা থেকে চট্রগ্রামে ট্রেনে ভ্রমণ করার সুযোগ পেয়েছিলাম ।

ভ্রমণ যাত্রার শুরুঃ আমার ভাই চট্রগ্রামে থাকে। একবার সে আমাকে তার সাথে কিছুদিন থাকার জন্য চট্রগ্রামে আমন্ত্রণ জানাল।

ভ্রমন যাত্রার বর্ণনাঃ গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে আমাদের কলেজ ১৫ দিনের জন্য বন্ধ হয়েছিল। সে বন্ধে আমি ট্রেনে চট্রগ্রাম যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার ভাইয়ের সাথে আমি চট্রগ্রাম পৌছলাম। আমরা যখন ষ্টেশনে পৌছলাম তখন সেটি লোকে পরিপূর্ণ ছিল। এটি মানুষের কথার কোলাহলমুখর ছিল । হকাররা জোরে জোরে কথা বলছিল এবং জিনিস পত্র বিক্রি করছিল। আমরা দ্বিতীয় শ্রেণীর দুটি টিকিট কিনলাম। ট্রেনটি যখন ষ্টেশনে ঢুকলো প্রত্যেক ট্রেনের কাছে আসল এবং ট্রেনে উঠতে চেষ্টা করল। অনেক কষ্টে আমরা ট্রেনে উঠলাম।

ট্রেনের ভিতরের পরিবেশঃ এটা ছিল একটি মেইল ট্রেন। বেল বাজার পর গার্ড বাঁশি বাজাল, পতাকা নাড়াল এবং ট্রেন চলতে শুরু করলো । প্রথমে ট্রেন আস্তে আস্তে চলল । তারপর ট্রেনটি পূর্ণ গতিতে চলতে শুরু করল। আমাদের ট্রেন ভৈরবে পৌছল। কিছুক্ষণ পর কিছু লোক রাজনীতি নিয়ে কথা বলা শুরু করল।

যাত্রার সময় মনরোম দৃশ্যঃ আমি একটি জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালাম । বাইরে সুন্দর দৃশ্য আমাকে মুগ্ধ করল। উভয় পাশে বাড়িঘর এবং গাছ পেছনে দৌড়াচ্ছে বলে মনে হল।

যাত্রা পথে বিরতিঃ ট্রেনটি আখাউড়া ষ্টেশনে কিছুক্ষণের জন্য থাকলো। তখন কিছু হকার আমাদের কামরায় উঠল। তারা কলা, বিস্কুট, আম, তরমুজ, আনারস এবং কালো জাম নিয়ে এলো। আমি দুটি কলা কিনলাম এবং চা খেলাম। তারপর ট্রেন ছাড়ল। আমি ঝিমাচ্ছি বোধ হলো।

যাত্রার সময় আনন্দময় ‍দৃশ্যঃ ট্রেন খোলা মাঠ দিয়ে চলতে শুরু করলো। আমরা বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করছিলাম। আমরা কৃষকদেরকে শস্য জমা করতে দেখছিলাম। এক জায়গায় আমরা এক কৃষকের অনাড়ম্বর কুটীরের খুব কাছাকাছি চলে এলাম। গৃহকর্ত্রী খাবার প্রস্তুূতে ব্যস্ত ছিল। ছেলে মেয়েরা কুটিরের বাইরে খেলছিল। ট্রেনটি যখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন তারা রেইল লাইলের কাছে এবং আনন্দে চিৎকার করল। কিছুক্ষণের জন্য আমি নিজেকে ভুলে গেলাম। আমি কুলিদের চিৎকারে জেগে উঠলাম। আমাদের ট্রেন ৫ টায় চট্রগ্রাম স্টেশনে পৌছল। আমরা ট্রেন থেকে নামলাম এবং আমাদের আনন্দময় ট্রেন ভ্রমণ শেষ হল ।

উপসংহারঃ এ ভ্রমণটি আমার কাছে খুবই উপভোগ্য ছিল। আমি এ ভ্রমণের মধুর স্মৃতি কখনও ভুলব না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!