কিডনি ভালো রাখার উপায়

কিডনি ভালো রাখার উপায়ঃ আমরা সকলেই জানি কিডনি শরীরের খুবই গুরুত্বর্পূণ্য একটি অংশ যা আমাদের সকল প্রকার খাদ্য হজমে সহায়তা করে। কিডনি ভালো রাখার উপায় সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে। Read more>>> গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তির উপায়

কিডনি ভালো রাখার উপায়

কিডনি ভালো রাখার উপায়

১. পর্যাপ্ত পানি পান করুনঃ প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয়না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।

২. লবন কম খানঃ খাবারে অতিরিক্ত লবন খাওয়া কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র এক চা চামচ লবণের চাহিদা থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করার অভ্যাস করুন।

৩. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর শতকরা ৫০ জনই কিডনি রোগে আক্রান্ত হন।রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন,নিয়মিত আপনার রক্তের সুগার পরীক্ষা করে দেখুন তা স্বাভাবিক মাত্রায় আছে কিনা, না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শুধু তাই নয় অন্তত তিন মাস পরপর হলেও একবার আপনার কিডনি পরীক্ষা করিয়ে জেনে নিন সেটা সুস্থ্য আছে কিনা।

৪. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ অনেকেরই ধারণা যে উচ্চ রক্তচাপ শুধু ব্রেইন স্ট্রোক আর হার্ট এটাকের ঝুকি বাড়ায়, তাদের জেনে রাখা ভালো যে কিডনি বিকল হওয়ার প্রধান কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। তাই এ রোগ থেকে বাঁচতে অবশ্যই আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে। কোনো কারণে তা ১২৯/৮৯মি,মি এর বেশি হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত অসুধ সেবন এবং নিয়ম মাফিক খাওয়া দাওয়া করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুনঃ অতিরিক্ত ওজন কিডনির জন্য ঝুকিপূর্ণ্য, তাই সুস্থ্য থাকতে হলে ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে। পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেলে কিডনি রোগ হবার ঝুকি অনেক কমে যায়। অন্য দিকে হোটেলে তেল মশলা খাবার খেলে রোগ হবার ঝুকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।মানুষের দৈনিক মাত্র এক চা চামচ লবণ খাবার  প্রয়োজন আছে-খাবারে অতিরিক্ত লবন খাওয়াও কিডনি রোগ হওয়ার ঝুকি বাড়িয়ে দেয়। তাই খাবারে অতিরিক্ত লবন পরিহার করুন।

কিডনি ভালো রাখার উপায়

 

৬. ধুমপান পরিহার করুনঃ অধুমপায়ীদের তুলনায় ধুমপায়ীদের কিডনি ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা শতকরা ৫০গুন বেশি। শুধু তাই নয় ধুমপানের কারণে কিডনিতে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পেতে শুরু করে। এভাবে ধুমপায়ী একসময় কিডনি বিকল রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়।

৭. অতিরিক্ত প্রোটিন থেকে বিরত থাকুনঃ গরুর মাংস খেলে কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এমনকি চিপস ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ইন্সট্যান্ট নুডুলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাবার তালিকায় অতিরিক্ত প্রোটিন থাকলে কিডনির উপর চাপ পড়ে এবং কিডনির দূর্বল কোষগুলোর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রাণীজ প্রোটিন এড়িয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় প্রোটিন রাখুন খাবার তালিকায়।

৮. অতিরিক্ত ভিটামিন সি খাবেন নাঃ মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি এর প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম বা এর কম ভিটামিন সি গ্রহণ করুন।

আমাদের মাঝে কেউ কেউ আছেন যাদের কিডনি রোগ হবার ঝুকি অনেক বেশি,তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত। কারো যদি ডায়াবেটিস অথবা উচ্চ রক্তচাপ থাকে, ওজন বেশি থাকে তবে তাকে উচিত সব সময় কিডনি পরীক্ষা করতে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!