রমজান

রমজানঃ আমাদের মুসলিম উমাত্তের জন্য রহমত সৌরুপ । রমজানের গরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা এত বেশি যে  আল্লাহ্তায়লা নিজ হাতে এর পুরস্কার দিবে । রমজান মুসলিম জাতির জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ন স্তম্ব ।

রমজান মাসের ফযীলত

মাহে রমজান

আরবি বছরের নবম মাস হল রমজান মাস । পবিত্র রোজা রাখার কারনে এ মাসে এত অধিক গুনাহ্ মাফ হয়, যা অন্য কোন মাসে হয় না । এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তই ফযীলতপূর্ণ ।

হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি পূর্ণ বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় রমজান মাসে রোজা রাখে, সে ব্যক্তি গুনাহ হতে এমন নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেমন মাতৃগর্ভ হতে ভূমিষ্ঠ হবার দিন নিষ্পাপ ছিল ।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, রোজাদারদের জন্য সমুদয় পশু-পাখি , কিট-পতঙ্গ, ফেরেশতা মন্ডলীর তরু লতা এবং পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী মাগফিরাত কামনা করে ।

নবী করীম  (সাঃ) আরও বলেন, যখন রমজান মাসের আগমন ঘটে তখন বেহেশতের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তান কে শিকল দ্বারা আটক করা হয়।

হাদীসে কুদসীতে আছে , আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেন রোযা আমার জন্যই এবং স্বয়ং আমিই এর প্রতিদান দেব’ ।

নবী করীম (সাঃ) আরও বলেন, জান্নাতে ‘রায়্যান’ নামক একটি দরজা আছে । এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সুধু সাওম পালনকারীরা প্রবেশ করবে ।

রমজান মাসের এবাদত বন্দেগীতে অন্নান্য মাসের এবাদত বন্দেগী অপেক্ষায় ৭০ গুণ সওয়াব বেশী পাওয়া যায় ।

রোযার বর্ণনা

রমজান এলো

ইসলামের ৫টি স্তরের মধ্যে রমজান মাসের রোজা ইসলামের তৃতীয় রুকন ।

পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে- হে মুমিন বান্দাগণ !

তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যে রুপ তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর ফরজ করা হয়েছিল,যেন তোমরা প্রকৃত পরহেজগার হতে পার ।

রোজা মানুষকে পাপ কাজ হতে বিরত রাখে ।

রোযার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় ।

রোযাদারের মন পবিত্র থাকে এবং তাতে পুরোমাত্রায় আল্লাহর যিকির ধ্বনিত হতে থাকে ।

রোযাদারের রুজি আল্লাহ বৃদ্বি করে দেন ।

রোযাদার ব্যক্তির প্রার্থনা অবশ্যই কবুল করা হয় ।

রোযাদারের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং রোযাদারের খাওয়া-দাওয়া, কাজ-কর্ম সবকিছুই এবাদতের মধ্যে পরিগণিত হয় ।

রোযা কু-মন্ত্রাণাদাতা রুহের শক্তিকে র্খব করে ।

আসমান-যমীনের সমস্ত ফেরেশতা রোযাদারের জন্য দোয়া করে ।

রোযাদারের জন্য প্রত্যেকদিন নতুন করে বেহেশতকে সজ্জিত করা হয় ।

রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের গন্ধের চাইতেও অধিক প্রিয় ।

রোযাদারের দেহ পাপ হতে সম্পূর্ন পবিত্র থাকে এবং কোন পাপ তাকে স্পর্শ করতে পারে না ।

রোযাদারের নেক আমল ও এবাদত বন্দেগীর পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয় ।

রোযাদারের প্রতি আল্লাহর রহমতের পরিমাণ অত্যাধিক বৃদ্ধি পায় ।

রোযা কাদের উপর ফরয

রমজান মাস

প্রত্যেক মুসলমান প্রাপ্তবয়স্ক, জ্ঞানসম্পন্ন, সুস্থ্য ব্যক্তির উপরই রোযা ফরয । চাই সে মেয়ে লোক হউক বা পুরুষ হউক ।

যাহারা রুগ্ন তাদের উপর রোযা ফরয নয় । যদি সম্ভব হয় রোযা রাখবে নাহয় সুস্থ্য হবার পর রাখবে ।

মুসাফিরের উপর রোযা ফরয নয় । তবে সফর হতে ফিরবার পর রোযা ক্বাযা রাখতে হবে ।

একে বারে বৃদ্ধ/বৃদ্ধা যারা রোযা রাখতে অসমর্থ  তাদের রোযার পরিবর্তে কাফফারা প্রদান করতে হবে ।

রমজান যে কারনে রোযা ভঙ্গ হয়

ইচ্ছাকৃত খানা খেলে ।

ইচ্ছাকৃত ঔষধ সেবন করলে ।

ইচ্ছাকৃত সহবাস করলে বা করালে ।

কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে ।

ইচ্ছাকৃত মুখভরে বমি করলে ।

রোযা রাখা অবস্থায় ভুল বসত খানা খেলে রোযা ভঙ্গ হয় না ।

যে কারনে রোযা ভাঙ্গা যায়

হঠাৎ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে যে, কিছু না খেলে বা ঔষধ সেবন না করলে রোগ বৃদ্ধি পাবে ।

হঠাৎ অসহ্য পেট বেথা আরম্ভ হলে !!!!

সাপে কামড় দিলে যদি ঔষধ খাবার প্রয়োজন হয় !!!!

গর্ভবতী স্ত্রী লোকের বা তার গর্ভের সন্তানের প্রাণ নাশের আশংকা দেখা দিলে !!!!

এত বেশী পিপাসা লেগেছে যে, প্রাণ নাশের ভয় আছে !!!!

সফরের অবন্থায় রোযা রাখতে অসুবিধা হলে !!!!

অতি বেশী দুর্বল হয়ে গেলে !!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!